বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪ বছর ধরে বন্ধ ২ নম্বর ইউনিট, এবার অচল তৃতীয়টিও
আব্দুস সালাম, (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎ সংকটের হটস্পট। গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের কবলে ৮টি জেলা।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হলো গর্ভনর ভালভ স্টিম সেন্সরের চারটি টারবাইন নষ্ট হয়ে যাওয়া। এই ইউনিটটি থেকে দৈনিক ১৬০ থেকে ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো, যা বন্ধ হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের কমপক্ষে ৮টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট।
১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে অর্থাৎ প্রায় ৪ বছর ৮ মাস ধরে সংস্কার কাজের অজুহাতে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এই ইউনিটটি চালু থাকলে কিছুটা হলেও সংকট মোকাবিলা করা যেত, যা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে শুধুমাত্র ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি দিয়ে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। এই ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ৮০০ মে. টন কয়লা লাগছে। অথচ বন্ধ হওয়া তৃতীয় ইউনিটটি চালু রাখতে লাগতো দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লা।
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কোল ইয়ার্ডে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। দৈনিক খনি থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহও করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও ৫২৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি আজ পর্যন্ত কখনোই একসাথে পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুটি প্রধান ইউনিটের মধ্যে একটি (২ নম্বর) প্রায় ৫ বছর ধরে অচল এবং অন্যটি (৩ নম্বর) হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দিকে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বন্ধ হওয়া তৃতীয় ইউনিটটি মেরামতের কাজ চলছে এবং আশা করছি এক সপ্তাহের পর ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে। তবে তিনি আরও জানান, যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় ইতিমধ্যে চীন (চায়নার) সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। চীনা যন্ত্রাংশ ও বিশেষজ্ঞ দল কবে আসবে, সেই বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেরার এক সপ্তাহের আশ্বাস কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এই সংকটের মাঝেই দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: জহুরুল হক জানিয়েছেন, সৈয়দপুর সাব স্টেশন মেরামতের কারণে শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত পার্বতীপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
পার্বতীপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এই এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮/৯ মেগাওয়াট।
সব মিলিয়ে, বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই নাজুক পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার মানুষ। চীনা যন্ত্রাংশ না আসা পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে আলোর দেখা মিলবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































